মহিমাগঞ্জে সুজা-সিদ্দিকের দাপট: চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে আতঙ্কে এলাকাবাসী
গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ এলাকায় চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার এবং মাদক নিয়ন্ত্রণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বি/এন/পির দুই নে*তা সুজা ও সিদ্দিককে ঘিরে। এলাকাবাসীর দাবি, তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট সরকার পত*নের দিন মহিমাগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সুজার বিরুদ্ধে। একই সময়ে মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চে*য়ারম্যান আ*ও*য়ামী লী/গের হওয়ায় তার সরকারি লিজ নেওয়া একটি বালুমহল দখল করে নেয় সুজা-সিদ্দিকগং।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন বি/এন/পির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর সুজা-সিদ্দিকের প্রভাব আরও বেড়ে যায়। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির নামে তারা বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, এসব বিচার টাকার বিনিময়ে প্রভাবিত হয় এবং এ ধরনের বিচার করার কোনো আইনি এখতিয়ার তাদের নেই।
এছাড়াও শ্রমিক/দলের নাম ব্যবহার করে প্রতিদিন বাস ও ট্রাক থেকে কয়েক হাজার টাকা চাঁদা তোলার অভিযোগও রয়েছে সুজা ও সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, নিয়মিতভাবে এসব অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মহিমাগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসা ও নিয়ন্ত্রণের পেছনেও সুজা ও সিদ্দিকের প্রভাব রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তাদের অনুমতি ছাড়া এলাকায় কোনো মাদকের চালান প্রবেশ করতে পারে না। কিছু বাসিন্দার অভিযোগ, সুজা নিজেও মাদকাসক্ত।
এছাড়া সুজা-সিদ্দিক সিন্ডিকেট ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম দখল করে রেখেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ চে*য়ারম্যান আনোয়ারুলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে পরিষদে বসতে দেয় না ও সকল কাজ এই ২ জন নিয়ন্ত্রণ করে। একই সঙ্গে ৫ আগস্টের পর আ*ও*য়ামী লী/গের নেতা*কর্মীদের ‘মব’ করার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব স্থানীয় রাজ*নীতিতেও পড়েছে। তারা দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংসদ নি*র্বাচনে মহিমাগঞ্জের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও এম/পি শামীম কায়সার লিংকন ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে জা/মা/য়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন, যার পেছনে স্থানীয় এই দুই নে/তার প্রভাব বিস্তারকে কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।
এসব অভিযোগের কারণে মহিমাগঞ্জে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের উচ্চ মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বি/এন/পির চেয়ার*ম্যান ও প্রধান/মন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হবে বলে জানান এলাকাবাসী। এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।