বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে আইসিসি: ক্রীড়া উপদেষ্টা
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বহিস্কারের জেরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও আইসিসির সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বের মধ্যেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে বড় শঙ্কা। এবার আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ পড়তে পারে, এমন আশঙ্কার কথা সরাসরি জানালেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন সম্প্রচারক টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। দর্শক ভর্তি গ্যালারির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, যোগ্যতা অর্জন করলেও বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সঞ্চালককে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেটকে কতটা ভালোবাসে, এই বিশাল দর্শক উপস্থিতিই তার প্রমাণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি খুবই প্রয়োজন ছিল। আপনারা জানেন, অতি সম্প্রতি বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
মূলত, নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরপেক্ষতার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানিয়ে আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়েছিল। এমনকি প্রয়োজনে গ্রুপ বদলের প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল, যাতে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলতে পারে বাংলাদেশ।
তবে বাংলাদেশের সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয় আইসিসি। সংস্থাটি বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর বিসিবি ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জানিয়ে দেয়, ভারতের মাটিতে তারা খেলবে না। এর ফলাফল হিসেবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘আমাদের ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে খেলার অধিকার আছে, কিন্তু তাদের বাদ দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই কঠিন সময়ে দর্শকদের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি আমাদের ক্রিকেটারদের সাহস জোগাবে এবং বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য একটি বিশেষ বার্তা দেবে।’
তিনি জানান, ঢাকার গ্যালারিতে দর্শকদের গগনবিদারী চিৎকারই প্রমাণ করে, বাংলাদেশে ক্রিকেট কতটা জনপ্রিয়। একইসঙ্গে ম্যাচে সরকারের একাধিক উপদেষ্টার উপস্থিতিকে তিনি দেশের ক্রিকেটের প্রতি সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখছেন।