লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
ইতিহাসে প্রথমবার স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। গেল বছর মূল্যবান এ ধাতুর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে ৬৪ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। দাম বাড়ার ওই ধারা এখনও অব্যাহত আছে, নতুন মূল্য দেখে সেটি বুঝা যাচ্ছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডলার দুর্বল হওয়ায় স্বর্ণের দাম উঠেছে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮৯ দশমিক ৭৮ ডলারে। গত শুক্রবার রুপার দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। চলতি সপ্তাহে তা ১০৮ ডলারের বেশি হয়েছে। এর আগে সর্বকালের সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১১০ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছিল স্বর্ণের দর। ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ভবিষ্যৎ মূল্যও একই হারে বেড়ে প্রতি আউন্সে ৫ হাজার ৮৬ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ভেনেজুয়েলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ, ইরানকে হুমকি এবং গ্রিনল্যান্ড ঘিরে ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে। এতে গত কয়েক মাসে মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম একের পর এক রেকর্ড গড়ছে। সাধারণত, স্বর্ণ ও রুপাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন বিনিয়োগকারীরা।
নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বাড়তি চাহিদা, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি শিথিল হওয়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর শক্তিশালী ক্রয়—এর মধ্যে ডিসেম্বরে টানা ১৪ মাসের মতো চীনের স্বর্ণ কেনা এবং এক্সচেঞ্জ–ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ প্রবাহের ফলে ২০২৫ সালে ধাতুটির দাম ৬৪ শতাংশ লাফিয়ে বেড়েছে। যা ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি।
ডলারের সাম্প্রতিক দরপতনের পর জাপানের মুদ্রা ইয়েনকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্র পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়। সোমবার এশিয়ার বাজারে তাই লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলার কিছুটা দুর্বল দেখা গেছে। নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ট্রেডারদের সঙ্গে ইয়েনের বিনিময় হার নিয়ে যোগাযোগ করেছে- এমন প্রতিবেদনের পর জাপানি মুদ্রায় হঠাৎ উত্থান ঘটে। এর ফলে ডলারের বিপরীতে ইয়েন এক শতাংশের বেশি (১৫৩.৮৯) শক্তিশালী হয়েছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মোট প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ২৬৫ টন স্বর্ণ উত্তোলন করা হয়েছে। এই পরিমাণ স্বর্ণ দিয়ে অলিম্পিকের তিন থেকে চারটি সুইমিং পুল ভরানো সম্ভব। উত্তোলিত স্বর্ণের বেশির ভাগই তোলা হয় ১৯৫০ সালের পর।