লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
গরমের মৌসুমে আম ও লিচুর পাশাপাশি বাজারে এখন ভরপুর কালচে বেগুনি রঙের রসালো জাম। সামান্য কষা ও মিষ্টি স্বাদের এই ফল অনেকের কাছেই বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এটি তুলনামূলক উপকারী ফল হিসেবে বিবেচিত হলেও সঠিক নিয়ম না মানলে এতে উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জামে প্রাকৃতিক চিনি থাকলেও এর গ্লাইসেমিক মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম এবং এতে আঁশের পরিমাণ বেশি। ফলে পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে অতিরিক্ত খেলে প্রাকৃতিক চিনির প্রভাবে শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে জাম খাওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। যাদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জামে থাকা কিছু উপাদান ক্যালসিয়ামের সঙ্গে মিশে কিডনিতে পাথর তৈরির আশঙ্কা বাড়াতে পারে। পাশাপাশি এতে পটাশিয়ামের পরিমাণও বেশি থাকায় কিডনি রোগীদের জন্য তা ক্ষতিকর হতে পারে।
অন্যদিকে, যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তাদেরও সতর্ক থাকা উচিত। বেশি জাম খেলে পেট ফাঁপা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের অন্ত্রজনিত জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
অনেকে জামের সঙ্গে লবণ ও মরিচ মিশিয়ে খেয়ে থাকেন। তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এ ধরনের অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাম খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ভুল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে রয়েছে খালি পেটে জাম না খাওয়া, খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে পানি না পান করা, এবং জাম খাওয়ার পর দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার না খাওয়া। এছাড়া জাম ও হলুদ একসঙ্গে খাওয়াও এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে জাম স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও এর উপকারিতা নির্ভর করে পরিমাণ ও সঠিক নিয়ম মেনে খাওয়ার ওপর। ডায়াবেটিক রোগীরা এটি খেতে পারলেও অবশ্যই পরিমিত মাত্রা ও সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি, অন্যথায় উপকারের বদলে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা জটিলতা।