লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
রেল সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অনুযায়ী, অতি: প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (সিএসটিই-পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার প্রায় আট বছর ধরে দায়িত্বে থেকে কমিশন, ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন, কেনাকাটা ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে এই অর্থ লুটপাটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
জানা গেছে, তিনি জুন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিএসটিই-পূর্ব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি ২০২১ থেকে মার্চ ২০২২ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআরএম হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময় ১৩টি বিভাগের তত্ত্বাবধানের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এপ্রিল ২০২২ থেকে আবারও তিনি সিএসটিই-পূর্বের দায়িত্বে রয়েছেন।
সম্প্রতি সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চিঠি পাঠিয়েছে প্রধান প্রকৌশলী সুশীল কুমার হালদারের কাছে। এ বিষয়ে প্রকৌশলী তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার জানিয়েছেন, দুদকের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
রেল সংশ্লিষ্টদের মতে, গত এক যুগে রেল খাতে প্রায় দুই লাখ কোটি টাকার বিনিয়োগ হলেও সংকেত ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আশানুরূপ হয়নি। এখনো অনেক রুটে ট্রেন চলছে ম্যানুয়াল ও অ্যানালগ সিগন্যাল ব্যবস্থায়, যা ডিজিটাল যুগে কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুর্বল সিগন্যাল ব্যবস্থাই বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
অভিযোগ রয়েছে, এই বিভাগে শত শত কোটি টাকার প্রকল্পে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার সিন্ডিকেট বছরের পর বছর কাজ পেয়ে আসছে। নতুন বা বাইরের ঠিকাদারদের টেন্ডারে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়, এমনকি হুমকি ও ভয়ভীতির অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে, যেগুলো নিয়মিতভাবে এই বিভাগে কাজ পায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কাউকে কাজ পেতে দেওয়া হয় না, ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার নিজেই স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, ঊর্ধ্বতন স্যারের কথা শুনতে হয়, সে যে ভাবে বলে সেই ভাবে কাজ করি, এখানে আমি একা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। বিল ছাড়করণে ঘুষ, কাজে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, টাকা পয়সা খাই, নিয়ম অনুযায়ী খাই, অস্বীকার করার কিছু নেই, কাজের উপর ডিফেন্ড করে কত টাকা খাওয়া যায়। স্যারদেরও একটা নিদিষ্ট কমিশন থাকে আমারও আছে। বেশি টাকা খাওয়ার দরকার পড়ে না। চলার মত হলেই হয়ে যায়।
রেল সূত্রে আরও জানা গেছে, সিগন্যালিং ও টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত কেনাকাটায় টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ হলেও ঠিকাদারদের ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হয়। বড় প্রকল্প, যেমন চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেললাইন প্রকল্পের আওতায় সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন আধুনিকীকরণেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কার্যক্রমে সংকেত ও টেলিযোগাযোগ দপ্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এই বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রেলের নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে গভীরভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী সুশীল কুমার হালদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।