লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং বেতন বৈষম্য কমানোর বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারের লক্ষ্য আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ফলে বর্ধিত বেতন হাতে পেতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগলেও ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর বলে গণ্য হবে। পরে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হবে।
সচিব কমিটির বৈঠকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই ধাপে বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপেই অধিক সুবিধা প্রদান, উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি, ভাতা বাড়ানো এবং বৈষম্য নিরসনে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা প্রথম ধাপেই বেতন বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা প্রথম ধাপে বর্ধিত বেতনের ৪০ শতাংশ সুবিধা পাবেন।
এ ছাড়া ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে পৃথক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। একই সঙ্গে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত যাচাই ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি বেতন নির্ধারণ প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।