লালসবুজ২৪.কম
বাংলাদেশের পরিচয় হবে মেধা দিয়ে, ধর্ম দিয়ে নয়: তারেক রহমান

লালসবুজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আন্দোলন করেছি আমরা ৭১ সালে এ দেশকে স্বাধীন করেছি ২০২৪ সালে আমরা ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান দিয়ে এই দেশে স্বাধীনতা রক্ষা করেছি এখন আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে।

এখন আমাদের দেশকে নতুন করে তৈরি করতে হবে। এই দেশের অর্থনীতিকে, এই দেশের গণতন্ত্রকে আমাদেরকে মজবুত করে গড়ে তুলতে হবে। যাতে এই দেশের মানুষের সামনে একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরি হয়। ১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। তখন আমরা দেখিনি কে মুসলমান কে হিন্দু কে বৌদ্ধ কে খ্রিস্টান। ২৪ সালে যখন রাজপথে আন্দোলনে সবাই নেমে এসেছিল তখনো দেখিনি কে মুসলমান কে হিন্দু কে বৌদ্ধ কে খ্রিস্টান। এই দেশের মানুষ আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামীতেও আমরা চাই প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে এই দেশে বসবাস করবে। যে যার যোগ্যতার ভিত্তিতে যে যার মেধার ভিত্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। প্রত্যেককে বিচার করা হবে তার যোগ্যতা ও তার মেধার ভিত্তিতে ধর্ম দিয়ে কোন বিচার করা হবে না।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেজন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সেই রকম একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বিএনপি আপনাদের পাশে থাকবে। সেরকম বাংলাদেশ করতে হলে বিএনপিকে সব সময় সকল জনগণ পাশে পাবে। তাই আসন আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য আজকে এই জনসভায় শপথ নেই। এই জনসভা হোক সেই শপথের জনসভা। যেই জনসভায় আমরা আমরা সব শপথ নিবো আমরা আগামী দিনে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলব। যে বাংলাদেশে সকল ধর্ম মতে মানুষ একসাথে কাজ করবে। একসাথে আমরা দেশকে গড়ে তুলবো।

তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন সহ বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য সকলের কাছে ধানের শীষে ভোট চয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি আসন, পঞ্চগড়ের দুটি আসন ও দিনাজপুরের একটি আসনের প্রার্থীদের হাতে ধানের শেষ প্রতীক তুলে দিয়ে বলেন, আমি প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষের প্রতীক তুলে দিয়েছি। এই প্রত্যেকটি মানুষকে আপনারা ১২ তারিখ পর্যন্ত দেখে রাখবেন। ১২ তারিখে তারা নির্বাচিত হলে তাদের দায়িত্ব হবে আপনাদেরকে ২৪ ঘন্টা দেখে রাখা। এলাকাকে দেখে রাখা ও এলাকার মানুষকে দেখে রাখা।

এসময় তারেক রহমান বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে এবার সময় এসেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন আর দেশ পুনর্গঠনে হাত দেওয়ার।

তিনি বলেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়তে চাই, এজন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হবে। এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। এতে কৃষক সহজে ঋণ-সার-ফসলের বীজ পাবেন।

১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ দেশের মালিক জনগণ। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই।

বক্তব্যে অঞ্চলটির উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। বলেন, চিনিকলসহ এই অঞ্চলের শিল্প কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁও ক্যাডেট কলেজ করার চেষ্টা করবে বিএনপি। এছাড়া হিমাগার তৈরি করা হবে, যেন কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারে। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আইটি সেক্টরেও হাব তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, মেডিক্যাল কলেজের দাবি বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারেও ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি তিনি।

পাশাপাশি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব এই এলাকার বিমানবন্দর চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।

ফ্যাসিষ্ট সরকার নিজেদের স্বার্থ দেখেছে, জনগণের স্বার্থ দেখেনি মন্তব্য করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সবার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হেলথ কেয়ারার নিযুক্ত করে ঘরে বসে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।

সমাবেশে উপস্থিত হাজারও জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, দেশটি সবার, বিএনপির শেষ ঠিকানা বাংলাদেশ। জনগণের সমর্থন নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চায় বিএনপি, যেখানে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোটি মানুষের নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করতে চায় বিএনপি।

তিনি বলেন, দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে, প্রতিটি মানুষকে বিচার করা হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। এসময় নিরাপদ দেশ গড়ার শপথ নিয়ে তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে দেশকে গড়ে তুলবো। শেষে তিনি এই এলাকার উন্নয়নসহ দেশের উন্নয়নে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।

বক্তব্যে ঠাকুরগাঁও ও উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন—চিনিকলসহ বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণে হিমাগার নির্মাণ করা হবে। বেকারদের কর্মসংস্থানে আইটি হাব গড়ে তোলা হবে। মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি বাস্তবায়ন করা হবে। সরকার গঠনের পর দ্রুত বিমানবন্দর চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ইপিজেড ও কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে।

সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বাঁচাতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে।

ধানের শীষের কোনো বিকল্প নাই মন্তব্য করে মহাসচিব বলেন, ধানের শীষের জয়ের মাধ্যমে দেশকে বাঁচাবেন তারেক রহমান।

লালসবুজ২৪.কম
ইমেইল: info@lalsobuj24.com