লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
রাঙামাটির দুর্গম সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সংকটের কারণে একটি আমগাছে উঠে দাপ্তরিক হাজিরা দিতে হয়েছে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে। সোমবার এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
জানা গেছে, বাঘাইছড়ি উপজেলার ভারত সীমান্তসংলগ্ন পাকুজ্জোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু তাহের অনলাইনে হাজিরা নিশ্চিত করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় একটি আমগাছে ওঠেন। সম্প্রতি চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতার ছবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক আবু তাহের জানান, বিদ্যালয়ে পৌঁছে প্রথমে ভবনের ছাদ থেকে হাজিরার ছবি পাঠানোর চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। পরে আশপাশের পাহাড়ের চূড়ায় উঠে নেটওয়ার্ক খুঁজলেও কোনো সংযোগ পাননি। শেষ পর্যন্ত একটি আমগাছের মগডালে উঠে দুর্বল নেটওয়ার্কের সহায়তায় তিনি হাজিরার ছবি পাঠাতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, চাকরি রক্ষার জন্যই তাকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিদ্যালয়টি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
রাঙামাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম দিনে ৫৩৮টি বিদ্যালয় থেকে হাজিরার তথ্য পাঠানো সম্ভব হয়েছে। তবে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় ১৭০টি বিদ্যালয় থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮টি বিদ্যালয়ের ৮৩ জন শিক্ষকের অনলাইন হাজিরা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সঞ্চয়ন চাকমা।
জেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজির আহমদ তালুকদার বলেন, সমতল অঞ্চলে অনলাইন হাজিরা কার্যক্রম সহজ হলেও পার্বত্য এলাকার বাস্তবতা ভিন্ন। অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক পৌঁছেনি। তাই পাহাড়ি অঞ্চলের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ নিয়মে প্রয়োজনীয় শিথিলতা আনার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, আপাতত বার্তাবিনিময়ভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে হাজিরার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নেটওয়ার্কবিহীন এলাকার তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।