লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে টাইব্রেকারে জার্মানিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের বাধা পেরিয়ে ইতিহাস গড়েছে প্যারাগুয়ে। সোমবার (৩০ জুন) ফক্সবরোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ গোলে সমতায় শেষ হলে ফল নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হলো জার্মানিকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে প্যারাগুয়ে। প্রথম মিনিটেই জুনিয়র আলোনসোর নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন জার্মান গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যার। প্রথমার্ধে জার্মানির রক্ষণে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে প্যারাগুয়ে।
এরই ধারাবাহিকতায় বিরতির আগে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে মাতিয়াস গালারজার বাড়ানো বলে হেডে জালে বল পাঠান হুলিও এনসিসো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি ছিল প্যারাগুয়ের ইতিহাসের প্রথম গোল।
বিরতির পর খেলায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। আক্রমণের গতি বাড়াতে মাঠে নামানো হয় লেওন গোরেৎজকাকে। পরে ফ্লোরিয়ান ভার্টজের নিখুঁত বাড়ানো বল থেকে ৫৪তম মিনিটে গোল করে জার্মানিকে সমতায় ফেরান কাই হাভার্টজ। চলতি আসরে এটি ছিল তার তৃতীয় গোল।
নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়েও দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে জোনাথান টাহর হেডে বল জালে জড়ালেও চিত্রসহায়ক প্রযুক্তির পর্যালোচনায় গোলটি বাতিল হয়। ফলে ম্যাচের নিষ্পত্তি গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানে প্যারাগুয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। তিনি কাই হাভার্টজ ও নিক ভল্টেমাডের নেওয়া দুটি শট প্রতিহত করেন। যদিও প্যারাগুয়ের দুটি শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত জোনাথান টাহর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে হোসে কানালে সফল শটে প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই প্রথম নকআউট পর্বে খেলতে নেমেছিল জার্মানি। তবে প্রত্যাবর্তনের সেই মিশন শেষ হয়েছে হতাশাজনক বিদায়ে।
ম্যাচে জার্মানির শুরুর একাদশে সুযোগ পান ডেনিজ উনডাভ। আগের দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে তিন গোল করা এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় শুরু থেকেই খেললেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অন্যদিকে, চোট কাটিয়ে রক্ষণভাগে ফেরেন নাথানিয়েল ব্রাউন।
প্যারাগুয়ের দলে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরেন মধ্যমাঠের খেলোয়াড় মিগেল আলমিরন। আগের ম্যাচে মুখ ঢাকার কারণে লাল কার্ড দেখে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি।
টাইব্রেকারের নাটকীয় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য অর্জন করেছে প্যারাগুয়ে। শেষ ষোলো নিশ্চিত করার লড়াইয়ে তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা। সুইডেনকে হারাতে পারলে পরবর্তী পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ হবে দারুণ ছন্দে থাকা ফ্রান্স।