লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২১ পিএম
ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোরালোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিজয় বলে দাবি করেছেন। তার মতে, এই সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও পূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও তিনি আত্মবিশ্বাসী অবস্থান তুলে ধরেছেন।
সংবাদমাধ্যম দ্য ডন বলছে, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘সর্বাত্মক ও পূর্ণাঙ্গ বিজয়’ অর্জন করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়ার পরপরই বার্তাসংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ বিজয়। শতভাগ। এ নিয়ে কোনও প্রশ্নই নেই’। একই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, এই চুক্তির অধীনে ইরানের ইউরেনিয়াম ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে’।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ কী হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি দেখভাল করা হবে, তা না হলে আমি এই সমঝোতায় আসতাম না’। এছাড়া ট্রাম্প এএফপিকে জানান, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলা যুদ্ধে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় তেহরানকে বসতে চীনই ভূমিকা রেখেছে বলে তার বিশ্বাস।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের যে জট তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে বলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের চাপ মোকাবিলায় আমরা সহায়তা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম নিয়ে সেখানে থাকব এবং পরিস্থিতি ঠিকভাবে চলছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ‘ঘোরাফেরা’ করব। মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এটি ‘সোনালি যুগ’ হতে পারে!!!’
তবে এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ঠিক কী হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি বলেন, ‘এতে বড় অঙ্কের অর্থ আসবে’ এবং ‘ইরান পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে’। এর আগে বার্তাসংস্থা এপি জানিয়েছিল, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায় করবে ইরান, যা পুনর্গঠনের তহবিল জোগাতে ব্যবহার করা হবে।