লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির দাবি, এই হামলায় সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট আস্তানাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে এই হামলা চালানো হয়। এতে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ওপর নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যাতে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চীন মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন স্থাপনায় এই হামলা চালানো হয়েছে। এই দুই প্রদেশ আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকা।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, এসব লক্ষ্যবস্তু আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, কাবুল সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় আফগানিস্তানের এই হামলার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
২০২১ সালের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে ওঠে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর আফগানিস্তান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়, যা সংঘাত আরও বাড়িয়ে দেয়।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, টিটিপি যোদ্ধাদের আফগান ভূখণ্ডে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। তবে আফগান সরকার এটিকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা বলে দাবি করে আসছে।
গত মার্চে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও একে অপরের বিরুদ্ধে নিয়মিত লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে। এরপর চীনের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত সংঘাতে শত শত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর যেকোনো হুমকি কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।