লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের ‘ঠেলে পাঠানো’ বা পুশ-ইন প্রক্রিয়া বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ আহ্বান জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই জাতিগতভাবে বাঙালি মুসলিমসহ বহু মানুষকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। এসব মানুষের অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আরও জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এ ধরনের পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতিরোধের কারণে দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় বহু মানুষ আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২১টি পৃথক ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষকে জোর করে সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে অথবা সীমান্তে আটকে রেখে মানবিক সংকট তৈরি করছে। তার মতে, এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সীমান্তে মানুষকে রাতের বেলায় নিয়ে গিয়ে কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে অন্য দেশে পাঠানোর মতো ঘটনাও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অন্য দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের প্রবেশে বাধা দিলে পরে তাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যের নাগরিক তালিকা ও নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, এসব প্রক্রিয়ার ফলে লাখ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব ঝুঁকিতে পড়েছে এবং অনেকেই আটক বা বহিষ্কারের আশঙ্কায় রয়েছে।
সংস্থাটি মনে করে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক বা বহিষ্কার করা মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসা ছাড়া সীমান্তে আটকে রাখা অমানবিক আচরণ বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে নাগরিকত্ব যাচাই ও সুশৃঙ্খল হস্তান্তর সম্ভব হলেও তা এড়িয়ে যাওয়ার ফলে সীমান্তে মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে, জাতীয়তা যাই হোক না কেন, দুই দেশের সীমান্তে মানুষকে এভাবে মানবেতর অবস্থায় ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।