লালসবুজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন দেশের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে ১০ হাজার টন ওজনের নতুন প্রজন্মের কৌশলগত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, নামপো বন্দরনগরীতে ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের ৫ হাজার টন শ্রেণির একটি আধুনিক যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কিম জং উন। সেখানেই তিনি নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
কিম জং উন বলেন, নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কর্মসূচি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে। এর মাধ্যমে দেশের পারমাণবিক শক্তিকে আরও বহুমুখী ও কার্যকরভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে প্রস্তুত থাকা সম্ভব হবে।
উত্তর কোরিয়া এর আগেই দাবি করেছিল, ‘চোয়ে হিয়ন’ তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে সজ্জিত যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এই জাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তদারকি করেছিলেন কিম জং উন।
তিনি জানান, ‘চোয়ে হিয়ন’-এর পর অচিরেই ‘কাং কোন’ নামের আরও একটি ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে। এরপর ধাপে ধাপে ১০ হাজার টন শ্রেণির বৃহৎ কৌশলগত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ ও মোতায়েন করা হবে।
কিম আরও বলেন, প্রতিবছর ‘চোয়ে হিয়ন’-এর চেয়ে উন্নত মানের অন্তত দুটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হবে ১০ হাজার টন ওজনের বৃহৎ রণতরী।
বিশ্লেষকদের মতে, ১০ হাজার টন শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ বিশ্বের আধুনিক নৌবাহিনীগুলোর শক্তিশালী রণতরীর সমপর্যায়ের হয়ে থাকে। এসব জাহাজ সাধারণত দীর্ঘপাল্লার অভিযান ও উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থার জন্য ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার নৌবাহিনীর বহরে ৫ হাজার টনের বেশি ওজনের ১০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। বিপরীতে উত্তর কোরিয়ার রয়েছে মাত্র দুটি। ফলে কিম জং উনের নতুন ঘোষণার পর কোরীয় উপদ্বীপের জলসীমায় সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকেরা।