শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

লালসবুজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ০১:০২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন নিয়মিত পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে গত দুই মাসের বকেয়া বেতনও জুলাই মাসেই পরিশোধ করা হবে বলে তিনি জানান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও অনন্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে কেবল প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এমনভাবে এ খাতকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও কার্যকর, গবেষণাভিত্তিক ও পরিকল্পিত ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে মাদরাসা শিক্ষার কাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর করতে কাজ করছে। পাশাপাশি ফাজিল ও কামিল শিক্ষাকে দেশের মূলধারার উচ্চশিক্ষার সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব আগের চেয়ে বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে ইসলামি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এজন্য দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাস্তবমুখী পাঠ্যক্রম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি জানান, গত সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষকসংকট থাকায় এসব পদে নিয়োগ জরুরি ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় মাদরাসা শিক্ষকদের দুই মাসের বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখা যায়, এ খাতে ৫০১ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও তার কোনো সংস্থান ছিল না। সেই কারণে বেতন পরিশোধে বিলম্ব হয়েছে। তবে জুলাই মাস থেকে বকেয়াসহ নিয়মিত বেতন দেওয়া হবে।

এছাড়া তিনি বলেন, প্রাথমিক স্তরের মাদরাসাগুলোর শিক্ষকেরা এমপিওভুক্তির দাবিতে আন্দোলন করছেন। কিন্তু এমপিওভুক্তির জন্য ৩৫ শতক জমি এবং শিক্ষক নিবন্ধনের শর্ত রয়েছে। পরে আগের সরকার জমির শর্ত কমিয়ে ২৩ শতক নির্ধারণ করলেও অনেক প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ও পরিদর্শন যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। ফলে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এ বিষয়ে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।