কানাডার বিপক্ষে মরক্কোর জয়ের সম্ভাবনা ৫১.৮ %: অপ্টা বিশ্লেষণ

লালসবুজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১০:২৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে শনিবার (৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে মুখোমুখি হবে সহ-আয়োজক কানাডা ও আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কো। দুই দলই 'রাউন্ড অব ৩২'-এ নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করায় ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।

পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অপ্টার সুপারকম্পিউটারের ২৫ হাজার ম্যাচ-সিমুলেশনের মধ্যে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ক্ষেত্রে জয়ী হয়েছে মরক্কো। অর্থাৎ, কাগজে-কলমে কিছুটা এগিয়ে থেকেই মাঠে নামছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

নাটকীয় জয় নিয়েই শেষ ষোলোয় দুই দল

'রাউন্ড অব ৩২'-এ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে যোগ করা সময়ে গোল করে জয় তুলে নেয় কানাডা। অন্যদিকে, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে সমতা ফেরানোর পর টাইব্রেকারে জয় পেয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মরক্কো।

কানাডার জন্য এটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম জয় হলেও বড় টুর্নামেন্টের নকআউটে নিজেদের শক্ত অবস্থান আরও একবার প্রমাণ করেছে মরক্কো। বিশ্বকাপ ও আফ্রিকা কাপ অব নেশনস মিলিয়ে ফাইনাল ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাদ দিলে, সর্বশেষ আটটি নকআউট ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই জয় পেয়েছে তারা। এর মধ্যে তিনটি জয় এসেছে টাইব্রেকারে।

দারুণ ছন্দে মরক্কো

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মরক্কোর পারফরম্যান্স ছিল দারুণ প্রভাবশালী। পুরো ১২০ মিনিটে ডাচরা মাত্র ০.২৪ এক্সপেক্টেড গোল তৈরি করতে পেরেছিল। বল দখল ও পাসিংয়েও ছিল মরক্কোর আধিপত্য। যেখানে নেদারল্যান্ডস সফলভাবে ২৯২টি পাস সম্পন্ন করে, সেখানে মরক্কো করে ৮০১টি।

একসময় এমন পরিসংখ্যান অকল্পনীয় মনে হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মরক্কোর উত্থান সেই ধারণাই বদলে দিয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা দলটি এবার আরও পরিণত ও শক্তিশালী রূপে দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রক্ষণে দুর্ভেদ্য আটলাস লায়ন্স

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র ৮.৩টি শট প্রতিপক্ষকে নিতে দিয়েছে মরক্কো। তাদের বিপক্ষে গড়ে ০.৮ এক্সপেক্টেড গোল সৃষ্টি করতে পেরেছে প্রতিপক্ষ।

এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, রক্ষণভাগে কতটা সংগঠিত ও কার্যকর খেলছে ওয়ালিদ রেগরাগুইয়ের দল।

ইতিহাসের সামনে জেসি মার্শ

অন্যদিকে কানাডার কোচ জেসি মার্শের সামনে রয়েছে অনন্য এক কীর্তি গড়ার সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচ যদি দলকে মরক্কোর বিপক্ষে জেতাতে পারেন, তবে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম মার্কিন কোচ হিসেবে একাধিক নকআউট ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়বেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের এক আসরে তিনটি ম্যাচ জেতা প্রথম মার্কিন কোচও হবেন তিনি।

সব মিলিয়ে হিউস্টনের লড়াইয়ে পরিসংখ্যান মরক্কোর পক্ষে থাকলেও নকআউট পর্বের অনিশ্চয়তা এবং কানাডার সাম্প্রতিক আত্মবিশ্বাস ম্যাচটিকে করে তুলেছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।