মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা, নীরবে লো প্রেশারে ভুগছেন না তো

লালসবুজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:৪১ পিএম

লো প্রেশার বা কম রক্তচাপ অনেক সময় অবহেলিত থাকলেও এটি গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে। সাধারণত একজন সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০। যদি রক্তচাপ ৯০/৬০ বা তার আশপাশে থাকে, তবে তা লো প্রেশার হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও অনেকেই উপসর্গ ছাড়া দীর্ঘদিন লো প্রেশারে জীবনযাপন করেন, তবুও হঠাৎ উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।

লো প্রেশারের সাধারণ লক্ষণ: চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লো প্রেশারে সাধারণত যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়—

মাথা ঘোরা বা ভারী অনুভূতিতে থাকা
দুর্বলতা ও অবসাদ
মনোযোগের ঘাটতি
ঝাপসা বা দৃষ্টি অস্পষ্ট হওয়া
বমিভাব
অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
গুরুতর ক্ষেত্রে উপসর্গগুলোর মধ্যে দ্রুত শ্বাস, ঠান্ডা ঘামযুক্ত ত্বক, দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং বিভ্রান্তি অন্তর্ভুক্ত। এমন অবস্থায় তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে যাওয়া জরুরি।

লো প্রেশারের সম্ভাব্য কারণ: বিশেষজ্ঞদের মতে, লো প্রেশারের পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে—

ভিটামিন বি১২ বা ফলেটের ঘাটতি
দীর্ঘসময় শুয়ে থাকা
গর্ভাবস্থা
কিছু ওষুধ, যেমন বিটা-ব্লকার বা ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট
হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস
পানিশূন্যতা বা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ
অটোনমিক নার্ভ সিস্টেমের সমস্যা

দ্রুত রক্তচাপ ঠিক করার ঘরোয়া উপায়: লো প্রেশার বা হঠাৎ রক্তচাপ কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছু ঘরোয়া কৌশল অবলম্বন করলে রক্তচাপ স্বাভাবিক সীমায় দ্রুত ফিরে আসে। চিকিৎসকরা নিচের কিছু উপায় প্রস্তাব করেছেন:

1. লবণ খান: রক্তচাপ সঠিকভাবে বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনমতো লবণ গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত লবণ বিপজ্জনক হতে পারে, তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।

2. বসে থাকার সময় পা ক্রস করুন: পা ক্রস করলে রক্তপ্রবাহ বাড়ে এবং রক্তচাপ সাময়িকভাবে ঠিক থাকে।

3. প্রচুর পানি পান করুন: পানিশূন্যতা রোধ করে রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখে।

4. ছোট ছোট ভাগে খাবার খান: বড় খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ রক্তচাপ কমতে পারে, তাই দিনে কয়েকবার ভাগ করে খাবার খাওয়া উত্তম।

5. ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন: নতুন কোনো ওষুধ নেয়ার পর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

6. কমপ্রেশন স্টকিং ব্যবহার করুন: পায়ে রক্ত জমা রোধ করে শরীরের অন্য অংশে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পায়।

7. হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন করবেন না: বসা থেকে দ্রুত উঠে দাঁড়ালে মাথা ঘোরতে পারে, তাই ধীরে ধীরে উঠুন।

8. ঘুমের সময় মাথা একটু উঁচু রাখুন: দিনে রক্তচাপের ওঠানামা কমাতে সহায়ক।

9. গরম পানি বা গরম পরিবেশ এড়িয়ে চলুন: এতে রক্তচাপ আরও কমে যেতে পারে।

10. নিয়মিত ব্যায়াম করুন: বিশেষ করে নিচের পেশি শক্তিশালী করা ব্যায়াম যেমন সাইক্লিং, হাইকিং বা সাঁতার উপকারী।

11. সুষম খাবার গ্রহণ করুন: ভিটামিন বি১২ ও ফলেটের ঘাটতি কমাতে ডিম, দুধ, শাকসবজি ও দানাশস্য অন্তর্ভুক্ত করুন।

বারবার মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ঝাপসা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া শকের মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে তা জরুরি চিকিৎসার দাবি রাখে। সব সময় কম রক্তচাপ বিপজ্জনক নয়, অনেকেই উপসর্গ ছাড়াই সুস্থ থাকেন। তবে যাদের উপসর্গ থাকে, তারা জীবনধারার পরিবর্তন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঘরোয়া উপায় ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।