হরমুজ প্রণালি পারের চেষ্টা করলেই জাহাজ জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি আইআরজিসির

লালসবুজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

বিশ্বের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আইআরজিসি’র একজন কমান্ডার বলেছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে, যেকোনো জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা করা হবে।

সোমবার আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফের একজন সিনিয়র উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি বলেছেন, ‘প্রণালীটি বন্ধ। যদি কেউ অতিক্রম করার চেষ্টা করে, তাহলে বিপ্লবী গার্ড এবং নিয়মিত নৌবাহিনীর বীররা সেই জাহাজগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেবে।’

আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক পোস্টে জাবারি আরো বলেন, ‘আমরা তেল পাইপলাইনগুলোতেও আক্রমণ করব এবং এক ফোঁটা তেলও এই অঞ্চল ছেড়ে যেতে দেব না। আগামী দিনে তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছাবে।’

আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘হাজার হাজার বিলিয়ন ডলার ঋণগ্রস্ত আমেরিকানরা এই অঞ্চলের তেলের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু তাদের জানা উচিত যে এক ফোঁটা তেলও তাদের কাছে পৌঁছাবে না।’

বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান।

ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।

বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।

প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়।

তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল, ইরান আক্রান্ত হলে এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম হু হু করে বাড়বে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তেল যেহেতু বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাই দামের যে কোনো উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে। ইরানের হামলার পর হরমুজ প্রণালির নিকটে তিনটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হওয়ার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে ইসরায়েল ও মার্কিন বোমা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান বিশ্বের জ্বালানি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালাচ্ছে।