ধ্বংসস্তূপের নিচে ছেলের কান্না শুনেও অপেক্ষায় মা, ফুরিয়ে আসছে সময়

লালসবুজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। মুহূর্তেই হাজারো মানুষের জীবন বদলে যায়। ধসে পড়ে শত শত ভবন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার চারশ ত্রিশ জন নিহত এবং তিন হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা স্বজনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় দিনরাত অপেক্ষা করছেন অসংখ্য পরিবার। তাদেরই একজন আন্দ্রেইনা ভ্যালেরিও। ভূমিকম্পের দিন কর্মস্থল থেকে ছুটে এসে তিনি খুঁজতে থাকেন তার এক বছরের দশ মাস বয়সী ছেলে সান্তিয়াগোকে।

জানা যায়, ভূমিকম্পের সময় শিশুটি আন্দ্রেইনার সঙ্গী রামসেস মেন্ডোজার সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে ছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তিনি দেখতে পান পুরো ভবন ধসে পড়েছে।

পরিবারের সদস্যরা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনদের খোঁজার চেষ্টা করছেন। আন্দ্রেইনা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে তার সন্তানসহ পরিবারের একাধিক সদস্য আটকে আছেন। তবুও তিনি এখনো আশা হারাননি।

পরবর্তীতে ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নারীর বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শোনার কথা জানান উদ্ধারকাজে থাকা স্বজনরা। পরে এক শিশুর কান্নার শব্দও শোনা যায় বলে দাবি করেন আন্দ্রেইনা। তিনি বিশ্বাস করেন, সেই কান্না তার সন্তানেরই।

উদ্ধার অভিযানে বিভিন্ন দেশের দল অংশ নিলেও এখন পর্যন্ত কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা খালি হাতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, অনেকে দিনের পর দিন না ঘুমিয়ে স্বজনদের খুঁজছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বহু ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সরকারি ও সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা হলেও উদ্ধার কার্যক্রমে ভারী যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে এবং অনেকেই গুরুতর শারীরিক ও মানসিক আঘাতে ভুগছেন। নিখোঁজদের ছবি নিয়ে পরিবারগুলো হাসপাতালে ও আশপাশে খোঁজ চালাচ্ছে, যদি কোনোভাবে প্রিয়জনের সন্ধান মেলে।

এই ভয়াবহ বিপর্যয়কে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় দুর্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি