বগুড়ার বিতর্কিত দুই ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

লালসবুজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:২২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার নবগঠিত দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল রেখে ইউনিয়ন দুটির নামকরণ করা হয়েছে এমন অভিযোগ ও বিতর্কের পর এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে মৌখিকভাবে ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে বলেছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত নির্দেশনা জেলা প্রশাসনের হাতে পৌঁছেনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশনা পাওয়ার পরই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করা হবে। পরবর্তী সময়ে লিখিত নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে নতুন করে গণশুনানির আয়োজন করা হবে। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামতের ভিত্তিতে ইউনিয়নের নতুন নাম নির্ধারণের প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে।

তৌফিকুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে নতুন তারিখ নির্ধারণ করে গণশুনানির আয়োজন করা হবে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে যে নাম প্রস্তাবিত হবে, সেটিকেই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

গত ১১ জুন জেলা প্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় মীরবাড়ী। অন্যদিকে মোকামতলা উপজেলায় গঠিত তিনটি ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয় সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম।

তবে নতুন চার ইউনিয়নের মধ্যে মীরবাড়ী, সীমান্ত ও দিগন্ত নাম নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম অনুসারে মীরবাড়ী এবং তার দুই ছেলে সীমান্ত ও দিগন্তের নামের সঙ্গে মিল রেখেই বাকি দুটি ইউনিয়নের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয় আলোচনা। পরে নামকরণ প্রক্রিয়া ও গণশুনানির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় আসে।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই এবং গণশুনানির ভিত্তিতেই ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নামকরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় সীমান্ত ও দিগন্ত নাম নির্বাচন করা হয়েছে। দুই ছেলের নামের সঙ্গে ইউনিয়নের নামের মিলকে তিনি সম্পূর্ণ কাকতালীয় বলে উল্লেখ করেন।