৫০ বছরেও আ.লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ: এমপি মাহাবুবুর রহমান
ময়মনসিংহ-৭ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশের তিনটি প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর মতে, বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দলটির প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে, যার কারণে আগামী ৫০ বছরেও দলটির ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা খুবই কম।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থ উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান মাহাবুবুর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অতীতের তুলনায় এবার বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবাসংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণের মূল্য হ্রাস, কিডনি চিকিৎসা ব্যয় কমানো এবং চিকিৎসা শিক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকেরা আরও আধুনিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, সারা দেশে সমন্বিত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ এবং গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষভাবে উপকারী হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিচয়পত্র চালুর উদ্যোগকে তিনি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
শিক্ষাখাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য একজন-একটি ট্যাব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার ঘটবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যের তারবিহীন ইন্টারনেট সুবিধা চালু হলে শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ আরও সহজ হবে।
তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কর আরোপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের ওপর কর আরোপ যৌক্তিক নয়। তিনি এ খাতকে করের আওতার বাইরে রাখার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশের নেতাদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তারই প্রমাণ।