কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের খবর উড়িয়ে দিল ইরান
কাতারের রাজধানী দোহায় চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর সরাসরি নাকচ করেছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। তবে কাতারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরান।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরুতে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত করাই আলোচনার প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য রয়েছে। ইরানের দাবি, যে কোনো পরিস্থিতিতে তারা এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখবে। তেহরানের ভাষ্য, এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে এ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অবাধ রাখার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন।
তেহরান থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি মোহাম্মদ ভাল জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে দোহায় কোনো কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এ বিষয়ে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আগেই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন।
তিনি আরও জানান, ইরান সাধারণত এ ধরনের বৈঠকের ঘোষণা শেষ মুহূর্তে দিয়ে থাকে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুমোদনের পরই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। ফলে পরবর্তী সময়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে। তবে আপাতত আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছে তেহরান।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন করে আলোচনায় বসার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো প্রয়োজন। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে এবং ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
তেহরান চায়, নতুন আলোচনা শুরুর আগে সমঝোতা স্মারকের সব ধারা পুরোপুরি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। তাদের দাবি, স্মারকের প্রথম ধারায় যুদ্ধবিরতি এবং পঞ্চম ধারায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরানকে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি দেশ ওমান উপকূলের কাছে নতুন একটি নৌপথ তৈরির চেষ্টা করছে। তেহরানের দাবি, সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম ধারা অনুযায়ী ওই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকারও তাদেরই থাকা উচিত।